প্রকল্পের পটভূমিঃ

প্রকল্পের পটভূমিঃ

বাংলাদেশে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জলাভূমিগুলোর জীববৈচিত্র্য, ইকোসিস্টেম, পানি প্রবাহ ইত্যাদি বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। অধিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে তাদের জীবিকার জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রকৃতি থেকে কাঁকড়া ও কুচিয়া সংগ্রহ এবং প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট নানাবিধ কারণে এদের আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। ফলে প্রকৃতিতে এদের পরিমান ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এছাড়াও বিদেশে কাঁকড়ার প্রচুর চাহিদা থাকায় উপকূলীয় এলাকায় কাঁকড়া চাষ পদ্ধতি ধীরে ধীরে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে । দেশে কাঁকড়ার সীডলিং উৎপাদনের জন্য কোন সরকারি ও বেসরকারি হ্যাচারি গড়ে না উঠায় প্রকৃতি থেকেই অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁকড়ার পোনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পোনা সংগ্রহের সময় প্রচুর পরিমাণে প্রজননক্ষম কাঁকড়া ও অন্যান্য প্রজাতির জলজ প্রাণি ধরা পড়ায় তা বিনষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকেরা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জলাশয় থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করে। এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তা বিদেশে রপ্তানী করা হয়। কিন্তু কুচিয়ার চাষ পদ্ধতি, খাদ্যাভ্যাস, প্রজনন কৌশলসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা জটিল এবং প্রকৃতি থেকে কুচিয়া আহরণ পদ্ধতি খুবই দুরূহ। বর্তমানে বানিজ্যিকভাবে কাঁকড়া চাষ ও প্রকৃতি হতে কুচিয়া আহরণ করা হচ্ছে । কাঁকড়া ও কুচিয়া চাষের জন্য বাংলাদেশের জলাশয় উপযুক্ত। কুচিয়ার ও কাঁকড়া চাষ পদ্ধতির প্রযুক্তি উন্নতকরনের লক্ষ্য প্রদর্শনীর জন্য ইতিমধ্যে উপযুক্ত উপজেলাসমূহকে নির্বাচন করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কুচিয়া ও কাঁকড়ার চাষের উৎপাদনশীল প্রযুক্তি বের করে মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে জনগণের কাছে এ প্রযুক্তিকে আরও সহজ ও লাভজনকভাবে উপস্থাপন করবে এবং কাঁকড়া ও কুচিয়ার খামারে পোনা উৎপাদন ও চাষ কৌশল প্রদর্শন করবে।

^